অস্টিনের পানশালায় বন্দুকধারীর রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব: নিহত ২, নেপথ্যে কি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী অস্টিনে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ১৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শহরের ব্যস্ততম সিক্সথ স্ট্রিট এলাকার একটি পানশালায় এই নারকীয় হামলার ঘটনা ঘটে। ঘাতক বন্দুকধারী ৫৩ বছর বয়সী এনদিয়েগা ডায়াগন পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার আগে সেখানে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। বর্তমানে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এই ঘটনাকে সম্ভাব্য ‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘাতকের বীভৎস তাণ্ডব ও রুদ্ধশ্বাস পুলিশি অভিযান
অস্টিন পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, হামলাকারী একটি এসইউভি গাড়ি নিয়ে ‘বুফোর্ডস ব্যাকইয়ার্ড বিয়ার গার্ডেন’ নামক পানশালাটির সামনে বেশ কয়েকবার চক্কর দেন। এরপর হঠাৎ করেই গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে থাকা মানুষের ওপর পিস্তল দিয়ে গুলি চালাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘাতক গাড়ি থামিয়ে রাইফেল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন এবং পথচারীদের লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো গুলি ছোড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পাল্টা আক্রমণ চালালে হামলাকারী এনদিয়েগা ডায়াগন নিহত হন। তার এই আকস্মিক হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুজন এবং গুলিবিদ্ধ আরও ১৪ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদের কালো ছায়া ও নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত
এফবিআই-এর বিশেষ এজেন্ট অ্যালেক্স ডোরান জানিয়েছেন, হামলাকারীর গাড়ি এবং পোশাক থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে যা সরাসরি সন্ত্রাসবাদের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এটি ঠিক কোন ধরনের আদর্শিক সন্ত্রাসবাদ, তা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ গোয়েন্দারা। উল্লেখ্য যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এক বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক কোনো সংঘাতকে পুঁজি করে টেক্সাসের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা করা হলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেছেন, তাদের অসীম সাহসিকতায় বড় ধরনের রক্তপাত থেকে রক্ষা পেয়েছে শহরটি। বর্তমানে হোয়াইট হাউস পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে।