গ্যালিলি সাগরের পশ্চিমে সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর সফল ড্রোন আক্রমণ: ফের উত্তেজনা সীমান্তে
লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের অভ্যন্তরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানার দাবি করেছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, গ্যালিলি সাগরের পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে তারা সফলভাবে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই আকস্মিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্যামসন বেসে আঘাত
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই ড্রোন হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে জানানো হয় যে, তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল 'স্যামসন বেস' নামে পরিচিত একটি প্রতিরক্ষা স্থাপনা। এটি 'ক্যাম্প শিমশোন' নামেও ব্যাপক পরিচিত। সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলের এই ধরনের উচ্চ-প্রযুক্তির সামরিক ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
এই সামরিক তৎপরতার পটভূমি বেশ গভীর এবং এর সূত্রপাত হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। ইসরায়েল এবং তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় লেবানন আনুষ্ঠানিকভাবে এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। যদিও এর অনেক আগে থেকেই ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্ন আক্রমণ চালিয়ে আসছিল, কিন্তু প্রেক্ষাপট বদলে যায় সাম্প্রতিক সময়ে।
নীরবতা ভেঙে কঠোর অবস্থান
প্রাথমিকভাবে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত হামলায় লেবানন কোনো সরাসরি ও বৃহত্তর প্রতিক্রিয়া না দেখালেও, মিত্র রাষ্ট্র ইরানের ওপর আক্রমণ শুরু হওয়ার পর হিজবুল্লাহ তাদের রণকৌশল পুরোপুরি পরিবর্তন করে। ইরানের সমর্থনে তারা এখন সরাসরি এবং আরও ধ্বংসাত্মক পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করেছে, যা ইসরায়েলের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্যালিলি সাগরের ধারের এই ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর সেই কঠোর অবস্থানেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন। তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে, তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আঘাত হানার পরিধি এখন অনেক বিস্তৃত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে সীমান্তে দুই পক্ষের সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।