বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি রক্ষায় উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্ভাব্য বৈশ্বিক ধাক্কা মোকাবিলায় এবং অভ্যন্তরীণ বাজার সুরক্ষিত রাখতে সরকার সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, সংকট মোকাবিলার জন্য সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অর্থনৈতিক সুরক্ষার নেপথ্যে সাত মহারথীর জোট
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সদ্য প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুসারে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি সুসংহত এবং শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটির নেতৃত্ব দেবেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে বিশ্ব বাজারের অস্থিরতা থেকে দূরে রাখার রূপরেখা তৈরি হবে।
অর্থমন্ত্রীর সাথে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সরকারের আরও ছয়জন প্রভাবশালী মন্ত্রী। তাঁরা হলেন—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী; বাণিজ্যমন্ত্রী; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং খাদ্যমন্ত্রী। এই বহুমুখী দল দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
সংকট বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ব্লুপ্রিন্ট
এই কমিটির প্রধান কাজ হবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সৃষ্ট সংঘাত ও যুদ্ধের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। এর পাশাপাশি, ওইসব বৈশ্বিক সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরূপণ করা হবে। এই নিবিড় বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই দেশের জন্য একটি টেকসই সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করবে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এই বিশেষ দল।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে একটি দারুণ নমনীয়তার দিকও রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি ও প্রয়োজন সাপেক্ষে কমিটি তার কার্যপরিধি বাড়াতে অতিরিক্ত সদস্য (কো-অপ্ট) অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতা রাখবে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির আকস্মিক পরিবর্তন বিবেচনায় কমিটি যখনই প্রয়োজন মনে করবে, তখনই জরুরি সভা আহ্বান করতে পারবে। এই কমিটি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বলয় সুদৃঢ় করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।