ইবি শিক্ষিকা রুনার নৃশংস হত্যাকাণ্ড: রহস্য উন্মোচনে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় নিয়েছে। নিজ অফিস কক্ষে ঘটে যাওয়া এই লোমহর্ষক ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নেপথ্যের রহস্য সন্ধানে শক্তিশালী দল
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা বিশেষ আদেশে বলা হয়েছে, সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার নিজ অফিস কক্ষে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কমিটিকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ও বিচার নিশ্চিতে এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিক্ষাঙ্গনের মতো পবিত্র স্থানে একজন শিক্ষকের এমন নির্মম মৃত্যুতে আতঙ্কিত সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। তাই তদন্ত কমিটিকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সত্য উদ্ঘাটন করতে পারেন। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়েও এই কমিটি তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তদন্তের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদরা
এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে থাকছেন উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) গোলাম মওলা। এ ছাড়া সত্য উদ্ঘাটনের এই লড়াইয়ে সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গাজী আরিফুজ্জামান খানকে।
এই উচ্চপর্যায়ের দলটি অবিলম্বে তাদের কার্যক্রম শুরু করে ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনে কাজ করবে বলে জানা গেছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ ও অপরাধীদের চিহ্নিত করবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এখন এই কমিটির প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছে, যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।