সর্বশেষ
Loading breaking news...

গ্রিসে চাকরির নামে প্রতারণা: বিপাকে শতাধিক বাংলাদেশি শ্রমিক

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বৈধ কর্মসংস্থান ভিসায় ইউরোপের দেশ গ্রিসে পাড়ি জমিয়েও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন শত শত বাংলাদেশি শ্রমিক। চুক্তিবদ্ধ নিয়োগকর্তার অনুপস্থিতি এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় অনেকেই এখন 'অবৈধ অভিবাসী' হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। অসাধু মানব পাচারকারী চক্র ও প্রতারক দালালদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়া এসব প্রবাসী এখন এথেন্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

ভিসার নামে বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া

ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট তাদের গ্রিসে আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়েছে। এই প্রলোভনে পড়ে জনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছেন শ্রমিকরা। কিন্তু গ্রিসে পৌঁছানোর পর দেখা গেছে, কাগজে যে নিয়োগকর্তার নাম ছিল, বাস্তবে সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই। এই প্রতারণা শ্রমিকদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আইনি জটিলতা ও কর্মহীন প্রবাসীদের আর্তনাদ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দালালরা স্থানীয় কৃষিজমি মালিকদের নাম ব্যবহার করে নামমাত্র মূল্যে ওয়ার্ক পারমিট জোগাড় করে। এই দুর্বল নথির মাধ্যমে ভিসা মিললেও কাজে যোগ দিতে না পারায় শ্রমিকরা আইনি বৈধতা হারাচ্ছেন। ইব্রাহিম হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী জানান, তাকে ১২০০ ইউরো বেতনের কথা বলা হলেও গ্রিসে এসে তিনি কোনো নিয়োগকর্তার হদিস পাননি। অনেকের ভিসার মেয়াদ এখন শেষ পর্যায়ে।

নারায়ণগঞ্জের আসিফ মিয়া ১৩ লাখ টাকা খরচ করে গ্রিসে এসেছিলেন একটি কৃষি খামারে কাজের আশায়। বর্তমানে তিনি কাজহীন অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। নাসিম হোসেন নামের আরেক শ্রমিক জানান, দালালদের সাথে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নিয়োগকর্তা না থাকায় তাদের রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতি নবায়ন করার কোনো উপায় নেই, যা তাদের দ্রুতই পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ঝুঁকিতে ফেলেছে।

দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া ও আইনি পদক্ষেপ

এথেন্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মার্জিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, প্রতারণার শিকার বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। রাষ্ট্রদূত ইতিমধ্যেই গ্রিসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা শুরু করেছেন যাতে ভুক্তভোগীদের আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা করা যায়। তবে এই বিপুল সংখ্যক প্রতারিত কর্মীকে পুনরায় বৈধ করা দূতাবাসের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন