জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর রাঙামাটি জেলা রাজনীতিতে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলের জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমার নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিটির ৮৭ জন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেছেন। এই গণপদত্যাগের ফলে জেলায় দলটির সাংগঠনিক কাঠামো চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সোমবার বিকেলে এক বিশেষ বৈঠক শেষে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আদর্শের সংঘাত
পদত্যাগী নেতাদের দাবি, জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তারা এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়ার পথে হাঁটছে, যা তাদের মূল আদর্শের পরিপন্থী। আদর্শিক এই বিচ্যুতির কারণেই তারা দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা।
সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত
আহ্বায়ক অসিম চাকমা গভীর হতাশা প্রকাশ করে জানান, দলের বর্তমান গতিপথ তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, “যে আদর্শ নিয়ে আমরা লড়াই শুরু করেছিলাম, এখন সেই স্বকীয়তা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।” পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যে জেলা কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা সকল প্রকার সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এনসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা গণপদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উপজেলা কমিটির পদত্যাগপত্র তাদের হাতে পৌঁছেছে। তবে এই গণপদত্যাগের ফলে আসন্ন নির্বাচনে দলের প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা জানান, তিনি পদত্যাগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তবে পদত্যাগপত্রটি যথাযথ নিয়ম মেনে দাখিল করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত নন। এই ঘটনা পার্বত্য অঞ্চলে এনসিপির জনপ্রিয়তাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।