সর্বশেষ
Loading breaking news...

খরাকবলিত বরেন্দ্র অঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের কৃষি বিপ্লব

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বরেন্দ্র অঞ্চলের লালচে কঠিন মাটি যেন এখন দীর্ঘশ্বাসের প্রতীক। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনাবৃষ্টি আর খরার তীব্রতা বাড়ছে দিন দিন, ফলে এখানকার চিরচেনা কৃষির রূপ বদলে যাচ্ছে দ্রুত। এই কঠিন পরিস্থিতিতেই টিকে থাকার নতুন পথ দেখাচ্ছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরা। তাঁরা এখন ঐতিহ্যবাহী ধানের চাষ ছেড়ে খরা-সহনশীল বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে মনোযোগ দিচ্ছেন। পানির স্বল্পতায় শুধু ফসলের ধরনই বদলায়নি, বদলেছে চাষাবাদের পদ্ধতিও।

একসময় অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করা রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ডাইংপাড়া গ্রামের অলিভিয়া বিশ্বাস এখন সফল কৃষক। শ্রমিক হিসেবে সংসারের টানাপোড়েন কমাতে না পারায় তিনি ধীরে ধীরে অন্যের জমি ইজারা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ৩০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন সবজি ও ফসল চাষ করছেন। তার মতো অনেকেই এখন স্বাবলম্বী।

প্রকৃতির সাথে লড়াই ও টিকে থাকা

খরার সঙ্গে লড়তে গিয়ে এই নারীরা নতুন কৌশল অবলম্বন করেছেন। উঁচু বেডে সবজি চাষ, মালচিং পদ্ধতি এবং জৈব সারের ব্যবহার—এ সবই প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁদের প্রচেষ্টার অংশ। তানোরের সাঁওতাল নারী শ্যামলী রাণী জানান, রাসায়নিক সার ও গভীর নলকূপনির্ভর কৃষিব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে তাঁরা আবারও জৈব সার তৈরি করছেন। কম পানি লাগে এমন ফসল চাষে ঝুঁকছেন তারা।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসিডির নির্বাহী পরিচালক সালীমা সারওয়ার মনে করেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরা জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় কৃষিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমদ বলেন, খরার কঠিন মাটিতেও সবুজের স্বপ্ন বুনছেন এই নারীরা। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জে বরেন্দ্রর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরাই টেকসই কৃষির অগ্রদূত হয়ে উঠছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) পাপিয়া রহমান মৌরি জানান, সরকারিভাবেও বরেন্দ্র অঞ্চলের নারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। নারীর এই ক্ষমতায়ন কেবল অর্থনৈতিক নয়, এটি পরিবেশ রক্ষারও এক বড় আন্দোলন।

আরও পড়ুন