শিল্প বিপ্লবের নতুন দিগন্ত: নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে শিল্পমন্ত্রীর বৈঠক ও বিনিয়োগের আহ্বান
বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এবং দ্বিপাক্ষিক শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তরে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির-এর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরল্ড গুলব্রান্ডসেন এক ফলপ্রসূ আলোচনায় মিলিত হন। বৈঠকে শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সম্পর্কের সোনালী অতীত ও ভবিষ্যতের রূপরেখা
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এবং বিদ্যমান অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শিল্পমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নরওয়েকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে দ্রুত শিল্পায়নের পথে এগিয়ে চলেছে এবং এই লক্ষ্য পূরণের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি নরওয়ের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।
যেসব খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার হাতছানি
রাষ্ট্রদূত হাকন আরল্ড গুলব্রান্ডসেন পারস্পরিক সহযোগিতার বিশাল ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করেন। তিনি জানান, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, জাহাজ রিসাইক্লিং, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রদূত ভবিষ্যতে দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশের অগ্রগতিকে সাধুবাদ জানান।
আলোচনার শেষে শিল্প উন্নয়ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষই সম্মতি প্রকাশ করে। মন্ত্রী জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে নরওয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিল্পখাতকে সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষই নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বাণিজ্য ইস্যুগুলো সমাধানের অঙ্গীকার করেন। এই বৈঠকটি বাংলাদেশ-নরওয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।