সর্বশেষ
Loading breaking news...

ইসরায়েলে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা: ৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। লেবাননের হিজবুল্লাহর সাথে একযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এক বিধ্বংসী আক্রমণের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪'-এর আওতায় এটি তাদের ৪০তম ধাপের হামলা। 'ইয়া আমির আল-মুমিনিন' কোডনেম ব্যবহার করে পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টিতে কেঁপে উঠল তেল আবিব থেকে হাইফা

আইআরজিসির বিশেষ বিবৃতি অনুযায়ী, এবারের হামলায় ইসরায়েলের অন্তত ৫০টি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করা হয়েছে। এর মধ্যে তেল আবিব, আল-কুদস এবং হাইফার মতো বড় শহরগুলোও রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। জর্ডানের আল-আজরাক এবং সৌদি আরবের আল-খারজ বিমানঘাঁটিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এই অভিযানে কদর, এমাদ, খাইবার-শেকান এবং ফাত্তাহ-এর মতো শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। বড় শহরগুলোতে সাইরেনের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নাগরিকদের বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়। এই হামলার ব্যাপকতা অতীতের যেকোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

রণাঙ্গনে দুই শক্তির নজিরবিহীন মেলবন্ধন

এই অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আইআরজিসি প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছে যে তারা হিজবুল্লাহর সাথে সরাসরি সমন্বয়ের মাধ্যমে এই আক্রমণ পরিচালনা করছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও 'অপারেশন ডিভোর্ড স্ট্র' নামে পৃথক অভিযান শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তারা উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে শতাধিক রকেট নিক্ষেপ করে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এখন তাদের নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আক্রমণাত্মক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অস্থিতিশীল।

আরও পড়ুন