সর্বশেষ
Loading breaking news...

যুদ্ধের লাগাম কার হাতে? ইরান-মার্কিন দ্বন্দ্বে সময়সীমা নিয়ে বাড়ছে চরম অনিশ্চয়তা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের সময়সীমা এবং এর নিয়ন্ত্রণভার শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষের হাতে থাকবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে গভীর আলোচনার জন্ম হয়েছে। তেহরান, ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব—এই তিন পক্ষ থেকে আসা ভিন্ন ভিন্ন বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ সংঘাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকেও ভাবিয়ে তুলেছে।

নেতানিয়াহুর লক্ষ্য: ইরান শাসনের অবসান

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তার প্রধান লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা যার চূড়ান্ত পরিণতি হবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পতন। তিনি প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছেন যে, কেবল শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা বা সরকারকে দুর্বল করাই তাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং এই সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে তেহরানে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরে জনগণকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, এই লক্ষ্য অর্জনে যত দীর্ঘ সময় প্রয়োজন, তারা তত সময় নিতে প্রস্তুত। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত করার এটিই সেরা সুযোগ। তারা মনে করেন, যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে অংশ নিতে বা সমর্থন দিতে আগ্রহী থাকবে, ততক্ষণ ইসরায়েলের উচিত সর্বোচ্চ আঘাত হানা এবং ক্ষমতার পটপরিবর্তন নিশ্চিত করা।

তেহরানের দৃঢ় প্রত্যয় ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

অন্যদিকে, ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছে যে এই যুদ্ধ কতদিন চলবে, সেই সিদ্ধান্ত তেহরানই নেবে। ইরানি কর্মকর্তারা শক্ত ভাষায় বলেছেন যে, তাদের সেনাবাহিনী একটি দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আরও উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে, যা সংঘাতের মাত্রাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানের সক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে জয় দাবি করে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবে। কিন্তু বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, উত্তেজনার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত ইরানের হাতেই রয়েছে। এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর কতটা ভয়াবহভাবে পড়বে, তা এখনই অনুমান করা কঠিন, যা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

আরও পড়ুন