বিদেশি ইন্ধনে বিশৃঙ্খলা নয়, হুঁশিয়ারি ইরানের: রাস্তায় নামলেই রাষ্ট্রের শত্রু ঘোষণা!
ইরানে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই আমেরিকা ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জনগণকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নামার লাগাতার প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে। তবে এই বহিরাগত উসকানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরানের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ইরানের পুলিশ প্রধান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা বিদেশি শক্তির আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাস্তায় নামবে, তাদের সাধারণ বিক্ষোভকারী হিসেবে দেখা হবে না; বরং তাদের সরাসরি ‘দেশের শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশি প্ররোচনা: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর একযোগে হস্তক্ষেপ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ধারাবাহিকভাবে ইরানি জনগণের মধ্যে অসন্তোষ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষত, নেতানিয়াহু মঙ্গলবার একদিনেই একাধিকবার ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশটির সাধারণ মানুষকে বিদ্রোহের পথে নামতে প্ররোচিত করেছেন। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা মূলত তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির বৃহত্তর কৌশলের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ প্রধানের কঠিন বার্তা: স্থিতিশীলতা নষ্টকারীদের রেহাই নেই
এই পরিস্থিতিতে ইরানের পুলিশ প্রধান আহমেদ রেজা-রাদান সরকারি টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে সরকারের কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শত্রুদের কথায় প্ররোচিত হয়ে যারা রাস্তায় নেমে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা লঙ্ঘনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
রাষ্ট্রদ্রোহিতার সমতুল্য আইনি পদক্ষেপ
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে স্রেফ সাধারণ নাগরিক ক্ষোভ হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিদেশি ইন্ধনে পরিচালিত এসব তৎপরতাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার সমতুল্য বলে গণ্য করা হবে এবং এর পরিণতি হিসেবে বিক্ষোভকারীদের কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হবে, যেখানে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
ইরান সরকারের এই কড়া বিবৃতি প্রমাণ করে যে, তারা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো প্রকার বিদেশি হস্তক্ষেপ বরদাশত করবে না। পশ্চিমারা ও ইসরায়েল যতই মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করুক, তেহরান প্রশাসন দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতেও প্রস্তুত রয়েছে।