ইসরায়েল-মার্কিন দূত বহিষ্কার করলে হরমুজে অবাধ চলাচলের প্রস্তাব ইরানের
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বড় ধরনের চাল হিসেবে ইরান ঘোষণা করেছে যে, যেসব দেশ ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার করে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে, তারা হরমুজ প্রণালিতে নির্বিঘ্নে চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই অভিনব শর্ত আরোপ করেছে। এই ঘোষণা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশাধিকারের নতুন কূটনীতি
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরব বা ইউরোপের যেকোনো রাষ্ট্র যদি নিজেদের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি ও মার্কিন দূতদের বিতাড়িত করে এবং ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে সমস্ত কূটনৈতিক যোগসূত্র ছিন্ন করে, তবে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার পাবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশনা মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ইরান কর্তৃক তার শত্রুদের একঘরে করার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। মাত্র একুশ মাইল প্রশস্ত এই সরু জলপথটি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এক সংকটের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ইরান-মার্কিন উত্তেজনা এবং ইসরায়েল সংক্রান্ত চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মূলত হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্ভাবনাই এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কাজ করছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিকরা। বিনিয়োগকারীরাও এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছেন।
এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে সরাসরি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণের বিষয়টি খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটটি বর্তমানে খোলা থাকলেও এর ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে কি না, তা নিয়ে হোয়াইট হাউস আলোচনা করছে। ইরানের শর্তারোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে এক ভয়াবহ সংকটের বীজ বপন করল বলে ধারণা করা হচ্ছে।