তেলের দাম ২০০ ডলার ছুঁতে পারে: বিশ্বকে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এক নতুন মোড় নিয়েছে। ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সরাসরি বিশ্বকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, পারস্য উপসাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছানো এখন সময়ের ব্যাপার। তেহরানের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং জ্বালানির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পারস্য উপসাগরে সংঘাতের তীব্রতা
বুধবার পারস্য উপসাগরে আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরপরই ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে এই কঠোর বার্তা আসে। এর আগে পেন্টাগন মঙ্গলবার ইরান কর্তৃক চালানো হামলাকে সর্বকালের সবচেয়ে তীব্র বলে আখ্যা দিয়েছিল। তবে ইরান জবাব দিতে দেরি করেনি; তারা বুধবার ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বজুড়ে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়। যদিও সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছিল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত সংঘাত অবসানের পথ খুঁজবেন বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। উপরন্তু, তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ করতে ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
তেহরানের নতুন রণকৌশল ও ব্যাংকিং খাত
ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি সরাসরি ওয়াশিংটনকে লক্ষ্য করে বলেন যে, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার হওয়ার জন্য বিশ্ব প্রস্তুত থাকা উচিত। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকেও তারা হামলার লক্ষ্যবস্তু করবে। তেহরানে একটি ব্যাংকের কার্যালয়ে রাতভর হামলার ঘটনার পর এই নতুন রণকৌশল সামনে আসে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি ততই বাড়তে থাকবে। ইসরায়েলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি নেতৃত্ব এখন মনে করতে শুরু করেছে যে এই যুদ্ধে ইরানি শাসনব্যবস্থা টিকে যেতে পারে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন এই সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ করার কোনো ইঙ্গিত না দেওয়ায় পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।