পশ্চিম এশিয়ায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত: ৭ মার্কিন সেনার মৃত্যু, ১৭ স্থাপনা বিধ্বস্ত
পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা নিয়ে নতুন ও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। সম্প্রতি পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের এক বিশেষ বিশ্লেষণে জানা গেছে, তেহরানের পাল্টা আক্রমণে অন্তত সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়। এটি পেন্টাগনের প্রাথমিক ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ভেদে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানির ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিকটি ঘটে কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে। গত ১ মার্চ মার্কিন সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় ছয়জন সৈন্য নিহত হন এবং ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটে। একই দিনে সৌদি আরবে অবস্থিত আরেকটি মার্কিন ঘাঁটিতে পৃথক আক্রমণে আরও একজন সেনা প্রাণ হারান।
প্রথম আঘাত হানার লক্ষ্যবস্তু: বৃহত্তম ঘাঁটিগুলোই
হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, যুদ্ধের প্রথম প্রহরেই মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি, প্রিন্স সুলতান, আলী আল-সালেম এবং ক্যাম্প বুহরিংয়ের মতো স্পর্শকাতর স্থানগুলো। ইরানের এই সমন্বিত আক্রমণে পেন্টাগনকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, যা মার্কিন নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে।
কংগ্রেসের কাছে জমা দেওয়া অভ্যন্তরীণ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে কেবল ২৮ ফেব্রুয়ারির একটি হামলায় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। আল-উদেইদ এবং আল-ধফরার মতো ঘাঁটিগুলো একাধিকবার আঘাত হানার শিকার হয়। ইরানের এই আক্রমণ প্রমাণ করে যে তারা আধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবহারে কতটা দক্ষ হয়ে উঠেছে।
অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার ধ্বংস
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল আমেরিকার ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষত থাড (THAAD) রাডার ইউনিট। স্যাটেলাইট চিত্রে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে থাড রাডার সেন্সর ধ্বংস হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে, যার মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া কাতারে অবস্থিত ১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি রাডার সিস্টেমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আমেরিকার সামরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা।