ইরান পতনে ব্যর্থতা: সরকারের পতন নয়, বরং ‘হাত গুটিয়ে নিল’ ইসরায়েল—রয়টার্সের বিস্ফোরক দাবি
সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করার যে দৃঢ় প্রত্যয় ইসরায়েল দেখিয়েছিল, সেই অবস্থান থেকে সরে আসছে তেল আবিব। ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল যৌথভাবে দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের যে লক্ষ্য স্থির করেছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন না ঘটায় পর্দার আড়ালে নিজেদের ‘অসহায়ত্ব’ স্বীকার করতে শুরু করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন।
নেতানিয়াহুর সুর পরিবর্তন: ‘সহায়তার’ আড়ালে পিছু হটার ইঙ্গিত
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, ভয়াবহ বোমাবর্ষণের পরেও ইরানে গণ-অভ্যুত্থানের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ দৃশ্যমান হয়নি। হামলার শুরুর দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে, এই সামরিক পদক্ষেপ ইরানি জনগণকে তাদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেবে। তবে সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে তার কণ্ঠে নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি এখন বলছেন, ইসরায়েলের ভূমিকা কেবল ‘সহায়তা করা’ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার থাকবে ইরানি জনগণের হাতে। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই পরিবর্তিত বক্তব্য আসলে ইরানে নিকট ভবিষ্যতে কোনো অভ্যুত্থান না ঘটার বাস্তবতারই প্রতিফলন। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এখন তাদের কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছে বলে জানা গেছে।
সামরিক সাফল্যের পরও লক্ষ্যভ্রষ্ট পশ্চিমা জোট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দ্রুত এই সংঘাত শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও ইসরায়েলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অভিমত, ওয়াশিংটন এখনো যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আশা করেছিল যে, হামলার ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা সাধারণ মানুষকে রাজপথে নামিয়ে আনবে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও জাতীয় সংকটের মুহূর্তে ইরানিরা বর্তমান শাসকদের পক্ষেই দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক সফলতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে ইসরায়েল এখন পথ হারাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধের পথ পরিহার করতে আগ্রহী। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পিছু হটা আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাপ্তি ঘটাতে পারে।