জয়পুরহাটে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে নির্মমভাবে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা উত্তরপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম খালেদা বিবি। তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী আব্দুল বাকি পলাতক রয়েছেন।
কলহের নেপথ্যে অর্থ ও গহনা
নিহত খালেদা বিবি একই গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামী আব্দুল বাকির সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। বিভিন্ন সময় বাকি তার স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা দাবি করতেন। টাকা না পেলে তিনি স্ত্রীর স্বর্ণের গহনা ও মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে বিক্রি করে দিতেন। এই আর্থিক শোষণ ও নির্যাতনকে কেন্দ্র করেই তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত।
ঘটনার দিন বিকেলে আব্দুল বাকি তার স্ত্রীর স্বর্ণের চেইন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মিটমাট করা হয় এবং গহনা ও ফোন খালেদা বিবিকে ফেরত দেওয়া হয়। তবে এই মীমাংসার কয়েক ঘণ্টা পরই রাতের আঁধারে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বের ক্ষোভ থেকেই বাকি তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন।
সাহরির সময় মরদেহ উদ্ধার
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার রাতে সাহরি খাওয়ার সময় হলে তাদের গৃহকর্মী মৌসুমী আব্দুল বাকিকে ডাকতে যান। তখন বাকি তড়িঘড়ি করে ঘরের দরজা খুলে পালিয়ে যান। সন্দেহ হওয়ায় মৌসুমী ঘরে ঢুকে দেখেন, খালেদা বিবি গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় নিথর হয়ে পড়ে আছেন। তার চিৎকারে গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন, কিন্তু ততক্ষণে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে কালাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। কালাই থানার ওসি (তদন্ত) দীপেন্দ্র নাথ জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।