সর্বশেষ
Loading breaking news...

খামেনির উত্তরাধিকার: আইআরজিসি-র সাম্রাজ্য ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে মোজতবার অগ্নিপরীক্ষা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

তেহরানের রাজনৈতিক অন্দরে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। কোমে অবস্থিত বিশেষজ্ঞ পরিষদের সচিবালয়ে সাম্প্রতিক বোমা হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সুরক্ষাবলয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তীব্র মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হলেও বর্তমান অস্থিতিশীলতায় সেই প্রথা নিয়ে সংশয় দানা বেঁধেছে।

নেতৃত্বের টানাপোড়েন: রুহানির সংযম বনাম সামরিক বাহিনীর জেদ

প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি নেতৃত্ব নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি এবং কট্টরপন্থী আলেমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক শূন্যতা দীর্ঘস্থায়ী করা দেশের জন্য বিপজ্জনক। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই প্রক্রিয়ায় অযাচিত হস্তক্ষেপ তেহরানের কট্টরপন্থীদের আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে।

আলি খামেনির উত্তরাধিকার: আইআরজিসি’র ক্ষমতার শেকড়

নতুন নেতা মোজতবা খামেনি পিতার রেখে যাওয়া বিশাল ক্ষমতা ও আইআরজিসি’র সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করবেন, তা-ই এখন প্রধান বিষয়। আলি খামেনি আইআরজিসি-কে ইরানের অর্থনীতির প্রতিটি খাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ গড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সাম্রাজ্যই আলি খামেনির প্রধান উত্তরাধিকার। মোজতবা সম্ভবত পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এই ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করবেন।

আদর্শিক অবস্থানে মোজতবা সম্ভবত অনড় থাকবেন। ট্রাম্পের নীতির বিপরীতে তিনি চীন ও রাশিয়ার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হতে পারেন। পশ্চিমের সঙ্গে বন্ধুত্বের চেয়ে প্রাচ্যের শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই হবে তার প্রধান কৌশল। মোজতবার নেতৃত্বের প্রথম বড় পরীক্ষা হবে পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত ফতোয়া নবায়ন করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারণ করা।

কট্টরপন্থীরা মোজতবার আগমনে উচ্ছ্বসিত এবং তাকে আধুনিক ইরানের একজন শক্তিশালী ত্রাণকর্তা হিসেবে দেখছেন। সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী জারঘামি তাকে একজন সংলাপপ্রীতি ও বিনয়ী নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের চাপের মুখে মোজতবাকে কেবল উত্তরসূরি নয়, বরং সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে তেহরানের রাজপথে।

আরও পড়ুন