ইরান-মার্কিন উত্তেজনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা: তেল উত্তোলন কমাল কুয়েত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের ফলে সৃষ্ট উত্তেজনায় ইরানি হামলার আশঙ্কায় কুয়েত হঠাৎ করে তাদের তেল উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছে। দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও সামরিক প্রস্তুতি
কুয়েতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় তারা সীমান্তে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। দুর্ভাগ্যবশত, সাম্প্রতিক এক হামলায় ইতিমধ্যেই তাদের দুইজন সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছেন। এরপর থেকে কুয়েতের সামরিক বাহিনী যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
গত রবিবার কুয়েতের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একঝাঁক ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা হয়। কুয়েতের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রুপক্ষের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা রুখে দিতে সক্ষম এবং অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে।
আঞ্চলিক শঙ্কা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কুয়েতে শোনা যাওয়া বিকট বিস্ফোরণের শব্দগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার শব্দ। কুয়েতের পাশাপাশি সৌদি আরব ও কাতারও রবিবার নতুন করে হামলার খবর প্রকাশ করেছে, যা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
ইরান-মার্কিন এই চলমান দ্বন্দ্বে কুয়েতের তেল উত্তোলন কমানোর ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে।