মাদারীপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার: নেপথ্যে শ্বশুরের 'পাশবিকতা'র অভিযোগ!
মাদারীপুর সদর উপজেলায় শ্বশুর কর্তৃক যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সাথী (২২) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের উত্তর মহিষেরচর গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অল্প কিছুদিন পূর্বে একই এলাকার কাইয়ুম বেপারীকে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ে করেছিলেন সাথী। বিয়ের কিছুদিন পরেই কাইয়ুম বেপারী ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়ে বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করছেন। স্বামীর এই অনুপস্থিতিই সাথীর জীবনে অন্ধকার ডেকে আনে।
শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের অভিযোগ
স্বামীর অনুপস্থিতিতে সাথীকে তাঁর শ্বশুর গোলাম বেপারী প্রায়ই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাথীকে যৌন হয়রানিসহ বিভিন্নভাবে চাপ ও নির্যাতন করা হচ্ছিল। এমনকি মৃত্যুর আগের দিনও তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা তাঁর আত্মহত্যার মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাথীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ন্যায়বিচারের আহ্বান ও পুলিশের তৎপরতা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।