গাইবান্ধায় স্ত্রীকে লাথি মেরে গর্ভপাতের অভিযোগে পাষণ্ড স্বামী র্যাবের হাতে গ্রেফতার
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে লাথি মেরে গর্ভের সন্তান হত্যার মতো একটি চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। এই নির্মম অভিযোগে স্বামী আবু সাঈদ ওরফে মিস্টারকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেফতারকৃত আবু সাঈদ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সোনাতলা সাখইল গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে।
যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের দীর্ঘ ইতিহাস
র্যাব জানায়, যৌতুকের জন্য অমানবিক মারধরের অভিযোগে গত বছরের ৬ অক্টোবর আবু সাঈদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন তার স্ত্রী। মামলার পর থেকে নিরাপত্তার অভাবে ওই গৃহবধূ তার বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি স্বামী আবু সাঈদ মামলা মীমাংসা ও সংসার করার প্রলোভন দেখিয়ে স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে ডেকে আনেন। সেখানে আসার পরপরই তিনি স্ত্রীকে মামলা তুলে নিতে প্রবল চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। স্ত্রী এতে অস্বীকৃতি জানালে পাষণ্ড স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে তার পেটে সজোরে লাথি মারেন।
গর্ভপাত ও র্যাবের সফল অভিযান
সজোরে লাথির আঘাতে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে দ্রুত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ ফেব্রুয়ারি তার গর্ভের সন্তানটি মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়। সন্তান হারিয়ে শোকাহত গৃহবধূ ওই দিনই স্বামী আবু সাঈদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় হত্যা ও নির্যাতনের নতুন মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর আসামী আত্মগোপনে চলে যায়। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ এর একটি আভিযানিক দল জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট পূর্বপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে আবু সাঈদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামীকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।