সর্বশেষ
Loading breaking news...

নারায়ণগঞ্জে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সাব্বির (৩০) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হামলার দুই দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার মধ্যরাতে ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে তিনি মারা যান। নিহত সাব্বির পিঠালিপুল পূর্ব মামাপাড়া এলাকার মৃত ইস্রাফিলের ছেলে। এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পরিবারের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে স্থানীয় সোহাগ গ্রুপের সঙ্গে সাব্বিরের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারিও তার ওপর একবার হামলা চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় সাব্বিরের ভাই বাদী হয়ে সোহাগসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। কিন্তু সেই মামলা করার পর আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুনরায় হামলার পরিকল্পনা করে।

পারিবারিক প্রতিহিংসার করুণ ইতিহাস

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিহত সাব্বিরের বাবা ইস্রাফিলকেও কয়েক বছর আগে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছিল। বাবার পর ছেলের এই করুণ পরিণতি পরিবারটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মাদক ও অপরাধী চক্রের সক্রিয়তার কারণে পিঠালিপুল এলাকাটি দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। সাব্বির হত্যার মধ্য দিয়ে সেই নৃশংসতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটল।

গত ৪ মার্চ সেহরি খাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে ওত পেতে থাকা সোহাগ গ্রুপের সদস্যরা সাব্বিরকে ঘিরে ফেলে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, মাদক ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। সাব্বিরের মৃত্যুর পর মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে এবং খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

আরও পড়ুন