তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে প্রলয়ংকরী বিস্ফোরণ: আকাশে আগুনের লেলিহান শিখা
ইরানের রাজধানী তেহরান কেঁপে উঠল ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দে। মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই হামলার পর আকাশে দেখা গেছে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের বিশাল কুণ্ডলী, যা মুহূর্তের মধ্যে চারপাশের পরিস্থিতিকে থমথমে করে তুলেছে। এই ভয়াবহ শব্দে পুরো শহরের বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
আগুনের কুণ্ডলী ও মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এই ধ্বংসলীলার চিত্র ধরা পড়ে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর পোস্ট করা ওই ভিডিওতে পরিষ্কারভাবে একাধিক বড় আকারের বিস্ফোরণের কানফাটানো শব্দ শোনা যায়। এরপরই রাতের অন্ধকার চিরে আকাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায় আগুনের এক বিশাল কুণ্ডলী, যা কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও দৃশ্যমান ছিল।
নেপথ্যে কি ইসরায়েলি আস্ফালন?
এই রোমহর্ষক ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তেহরানের বুকে নতুন করে হামলা শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে একটি চরম আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। মেহরাবাদ বিমানবন্দরটি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের পাশাপাশি সামরিক কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সিএনএন-এর ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্তকরণ
সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তারা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভিডিওটির ভৌগোলিক অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করেছে। নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই প্রলয়ংকরী বিস্ফোরণ ও আগুনের ভয়াবহ দৃশ্য তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিক থেকেই এসেছে। তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্য ও যুদ্ধের শঙ্কা
তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এই বিস্ফোরণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের পাল্টা জবাব দেওয়া হতে পারে। এতে পুরো অঞ্চল এক ভয়াবহ মহাযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বনেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।