মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে এশিয়া কাঁপছে: জ্বালানি সংকটের মুখে জাপান-কোরিয়া
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। এশিয়ার দেশগুলো তাদের অপরিশোধিত তেলের জন্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এশিয়ার মোট আমদানিকৃত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে এই অঞ্চল থেকে। হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট অস্থিরতা নতুন করে বড় ধরনের জ্বালানি শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।
নির্ভরশীলতার জাঁতাকলে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া
শিপিং অ্যানালিটিক্স সংস্থা কেপলারের তথ্যমতে, এশিয়া প্রতিদিন গড়ে ২৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করে। এই নির্ভরশীলতার কারণে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে। জাপান তাদের চাহিদার ৯৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়া ৭০ শতাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনে। সিঙ্গাপুরও গত বছরে তাদের আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে, যা তাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভরসা ভাঙার আশঙ্কায় এশীয় অর্থনীতি: বহুমুখী সংকটের পূর্বাভাস
চীন বহুমুখী কৌশলের কারণে কিছুটা কম ঝুঁকিতে থাকলেও উত্তর এশিয়ার দেশগুলোতে জাহাজে তেল পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে। ফলে এই অঞ্চলে সরবরাহ ব্যত্যয় সরাসরি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলবে। সংকটের আঁচ ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের বাজারে অনুভূত হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পেট্রোলের দাম নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে তেল মজুদ না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আগামী ১৫ দিনের জন্য তেলের দাম নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনেও সংকট মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় এশীয় দেশগুলো এখন বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করেছেন যে, তেলের দাম মাত্র ১০ শতাংশ বাড়লে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ০.৪ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এশীয় অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী ও নেতিবাচক।