বিদেশের রিমোট কন্ট্রোলে মিরপুর: ভয়ংকর 'ফোর স্টার' সিন্ডিকেটের কবজায় রাজধানীর বৃহৎ জনপদ
রাজধানীর অন্যতম জনবহুল এলাকা মিরপুর এখন চার দুর্ধর্ষ অপরাধী চক্রের জাঁতাকলে পিষ্ট। স্থানীয়ভাবে ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ নামে পরিচিত এই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সিন্ডিকেটটি পুরো মিরপুরকে ১৪টি সুনির্দিষ্ট অঞ্চলে ভাগ করে তাদের শাসন কায়েম করেছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই চক্রের মূল হোতারা কেউ দেশে নেই; বরং বিদেশ থেকেই ডিজিটাল মাধ্যমে নিজস্ব বাহিনীর সাহায্যে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও খুনের মতো অপরাধ পরিচালনা করছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপার থেকে নিয়ন্ত্রিত অপরাধ সাম্রাজ্য
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মফিজুর রহমান মামুন বর্তমানে মালয়েশিয়া থেকে, ‘কিলার’ ইব্রাহীম ফ্রান্স থেকে, শাহাদাত হোসেন ইতালি থেকে এবং মহসিন-মোক্তার দুই ভাই ভারত হয়ে দুবাইয়ে বসে মিরপুরের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছেন। মিরপুর-১২, পল্লবী, সাগুফতা ও বাউনিয়া এলাকা রয়েছে মামুনের নিয়ন্ত্রণে। মিরপুর-১৩, ১৪, ভাসানটেক ও কালশী এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইব্রাহীমের বাহিনী। অন্যদিকে শাহাদাত হোসেনের কবজায় রয়েছে মিরপুর-১, ২, ৬ ও ৭ নম্বর সেকশন। আর মহসিন ও মোক্তার ভাইয়েরা নিয়ন্ত্রণ করছেন মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বর এলাকা।
এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নিষ্ঠুরতার চিত্র ফুটে ওঠে গত বছরের নভেম্বরে, যখন পল্লবীতে প্রকাশ্য দিবালোকে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশি তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে মামুনের অনুসারীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। শুধু খুন নয়, আবাসন ও পরিবহন খাতেও এদের চাঁদাবাজি চরমে। পল্লবীর একটি নির্মাণাধীন ভবনে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং শাহ আলীর স্বাধীন মার্কেটে ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে ভাঙচুরের ঘটনায় এই চক্রগুলোর সক্রিয় উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে সক্রিয় অপরাধী চক্রের জট
হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশের নম্বর থেকে ফোন করে ব্যবসায়ীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এখন এই এলাকায় নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিদেশে পলাতক থাকলেও দেশে তাদের বাহিনী পরিচালনায় রয়েছে বিশ্বস্ত সহযোগীরা। মামুনের হয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন তার বড় ভাই জামিলুর রহমান ও ছোট ভাই মশিউর রহমান। একইভাবে শাহাদাত ও ইব্রাহীমের অনুসারীরা মিরপুরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও মাছের আড়ত থেকে দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করে।
মিরপুর বিভাগের পুলিশ উপকমিশনার মোস্তাক সরকার জানিয়েছেন, অপরাধীদের গ্রেফতারে কাজ চলছে। পলাতক মামুনের বিরুদ্ধেই অন্তত ২৭টি মামলা এবং একাধিক সাজা পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশের তালিকায় থাকা এই অপরাধীদের দৌরাত্ম্য রুখতে বর্তমানে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।