সর্বশেষ
Loading breaking news...

ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিদেশে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন: মির্জা ফখরুল

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে গুমের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর অবর্ণনীয় কষ্টের কথা স্মরণ করে চরম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার ‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্রের শুভযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে বিশেষ ‘ভাতা’ চালুর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।

গুম হওয়া পরিবারের অধিকার

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজ কেউ মন্ত্রী হয়েছি, কেউ এমপি বা বড় আমলা হয়েছি। কিন্তু যারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে গিয়ে গুম হয়ে গেছেন, তাদের সন্তানরা আজ ঘোর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বিভিন্ন খাতে সরকারি ভাতা দেওয়া হলেও, এই পরিবারগুলোর জন্য এখনো আমরা সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগ নিতে পারিনি। আমি আজই ফিরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখব, যেন এই পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসিক ভাতা প্রদান করা হয়। এটি কোনো দয়া নয়, এটি তাদের প্রাপ্য অধিকার।’

বক্তৃতাকালে মন্ত্রী বেশ কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি পুরনো স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগে রমজান মাসে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আমরা গুম হওয়া পরিবারের সন্তানদের নিয়ে প্রথম ইফতার মাহফিল করেছিলাম। আজ পাশে তুলির মা, পেছনে মুন্নার মাকে দেখে সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। মুন্নার বাবা তার সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে ভারত পর্যন্ত গিয়েছিলেন, শেষে বিচার না পেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। পিতার এই তীব্র হাহাকার ভোলার মতো নয়।’

ফ্যাসিস্ট সরকারের সমালোচনা

গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির সাহসিকতার প্রশংসা করে মন্ত্রী তাকে ‘প্রকৃত হিরো’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, যখন কেউ ভয়ে কথা বলতে সাহস পেত না, তখন এই মেয়েটি একা জেনেভায় হিউম্যান রাইটস কমিশনের কাছে লড়াই করেছে। পাশাপাশি, নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এটি আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে।

বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ লাগে কোথায় জানেন? আজকে সেই ফ্যাসিস্ট মহিলা বিদেশে বসে এতটুকু অনুশোচনা ছাড়াই সমানে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, যেটাকে আমি মনে করি একটি ক্রিমিনাল অফেন্স। এটি মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ।’ মন্ত্রী গুম হওয়া পরিবারগুলোর সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন