সর্বশেষ
Loading breaking news...

তিন মাসের রহস্যময় নিখোঁজ কাহিনির সমাপ্তি, রেলস্টেশন থেকে উদ্ধার হয়ে পরিবারের কাছে ফিরলেন ধলাই মিয়া

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৬০ বছর বয়সী ধলাই মিয়া দীর্ঘ তিন মাস পর অবশেষে তার পরিবারের কাছে ফিরতে পেরেছেন। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে তিনি হঠাৎ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন। মানবিক সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর ঐকান্তিক উদ্যোগে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়ার পর গত শনিবার রাতে তাকে স্বজনদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

পরিবারের স্বস্তির নিশ্বাস

হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সময় ধলাই মিয়ার পুত্রবধূ রাশেদা এবং তার বড় বোন নাসিমা উপস্থিত ছিলেন। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হবিগঞ্জের নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়। দীর্ঘ উদ্বেগ আর অপেক্ষার পর স্বজনদের ফিরে পেয়ে ধলাই মিয়ার পরিবারে স্বস্তির নিশ্বাস নেমে আসে।

জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে ধলাই মিয়া কোনো কারণ ছাড়াই বাড়ি থেকে হঠাৎ বের হয়ে যান। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ধলাই মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগেও তিনি একবার নিখোঁজ হয়েছিলেন এবং প্রায় দুই মাস পর নিজেই বাড়িতে ফিরে আসেন। তিনি প্রায়শই বিভিন্ন মাজারে যাতায়াত করতেন। এবার দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ি না ফেরায় পরিবার গভীর উদ্বেগে ছিল।

মানবিক সংগঠনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা

জিজ্ঞাসাবাদে ধলাই মিয়া জানান, তার পিতার নাম মৃত গনু মিয়া। তিনি হবিগঞ্জ জেলা শহরের নওবাদ এলাকার বাসিন্দা। তার তিন ছেলে বেকারির কাজে নিয়োজিত এবং দুই মেয়ে রয়েছে। তিনি আরও জানান, ট্রেনে করে সিলেট থেকে হবিগঞ্জ হয়ে আশুগঞ্জ রেলস্টেশন পর্যন্ত আসার কথা মনে করতে পারছেন। তবে কীভাবে বা কখন তিনি সেখানে পৌঁছেছেন এবং উদ্ধারের আগে পর্যন্ত তার দিনগুলো কীভাবে কেটেছে, সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু মনে করতে পারেননি।

গত শুক্রবার রাতে ধলাই মিয়ার পরিবারের সদস্যরা হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেনকে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানান। এরপর ধলাই মিয়ার পরিবারের সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে শনাক্ত করার পর হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। ধলাই মিয়াকে প্রথম উদ্ধার করা হয় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে। পরদিন ‘ঐক্যবদ্ধ আশুগঞ্জ’-এর সদস্যরা তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং পরে তাকে সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত সকলের সহযোগিতায় এই রহস্যময় নিখোঁজ ঘটনার অবসান ঘটে।

আরও পড়ুন