সর্বশেষ
Loading breaking news...

এটুআইতে ‘মব-তন্ত্র’: বরখাস্ত কর্মকর্তার বেতন যেভাবে ৭০ হাজার থেকে ৫ লাখ হলো

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

সরকারি সেবা ডিজিটাল করার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ‘এসপায়ার টু ইনোভেট’ বা এটুআইতে ঘটেছে এক নজিরবিহীন ঘটনা। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া এক কর্মকর্তা দলবল নিয়ে দফায় দফায় চাপ সৃষ্টি করে কেবল নিজের পদই ফিরে পাননি, বরং নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ৭০ হাজার টাকার বেতন বাড়িয়ে নিয়েছেন ৫ লাখ টাকায়। এই ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে এক অস্থির পরিবেশ তৈরি করেছে।

বহিষ্কার থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রে: যেভাবে শুরু ‘মব-সন্ত্রাস’

ঘটনার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিটির নাম ফাহিম আবদুল্লাহ। তিনি এটুআইতে একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অদক্ষতার অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট তিনি একদল বহিরাগতকে নিয়ে এটুআই কার্যালয়ে হাজির হন এবং প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে হুমকি দিয়ে চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবি জানান। চাপের মুখেই এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরীসহ ১৪ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

চাপ প্রয়োগ করে পদ ফিরে পাওয়ার পর ফাহিম আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীদের বেতন বাড়ানো হয় অবিশ্বাস্য হারে। প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ফাহিমের বেতন ২০২২ সালে ছিল ৭০ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের পর কয়েক ধাপে বেড়ে প্রথমে ৪ লাখ এবং পরে ৫ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। একইভাবে তার সহযোগীদের বেতনও কয়েকগুণ বেড়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রেও মানা হয়নি কোনো ন্যূনতম যোগ্যতার মাপকাঠি।

আঙুল ফুলে কলাগাছ: তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি

এই ঘটনায় এটুআইয়ের সঙ্গে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর টানাপোড়েন তৈরি হয়। ইউএনডিপি তাদের চুক্তির অধীনে থাকা কর্মীদের অপসারণের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ‘নোট ভার্বাল’ পাঠায়। তবে পরবর্তীতে তারা জানায়, আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি খুঁজে না পাওয়ায় মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটি নিয়ে কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এদিকে, ফাহিম আবদুল্লাহ তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ৫ আগস্টের পর প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করায় একটি সিন্ডিকেট তার বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছে। মবের সঙ্গে তার নিয়োগের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুর রফিক জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং তদন্তে সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন