শিক্ষায় বিপর্যয়! সভাপতির যোগ্যতা শিথিলের প্রস্তাবে এনসিপি’র প্রতিবাদ: 'রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের নতুন ছক'?
দেশের শিক্ষা অঙ্গনে আবারও এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের আভাস দেখা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির জন্য নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার প্রাথমিক সিদ্ধান্তে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য 'পশ্চাৎমুখী প্রবণতা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দলটি।
নেপথ্যের আলোচনা: ১০ মার্চের সিদ্ধান্তের প্রতিধ্বনি
এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১০ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সাথে আলাপকালে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এনসিপির শিক্ষা ও গবেষণা সেল এই উদ্যোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হলো অযোগ্যদের হাতে শিক্ষকদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেওয়া।
দলটি মনে করে, সভাপতির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমিয়ে দিলে তা মেধাবীদের নিরুৎসাহিত করবে। একজন অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত ব্যক্তি যখন পরিচালনা পর্ষদের প্রধান হন, তখন তার অধীনে উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকদের কাজ করা অনেক ক্ষেত্রে অসম্মানজনক হয়ে দাঁড়ায়। এটি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পথে বড় অন্তরায়।
অযোগ্যদের হাতে লাগাম: অতীতের কালো অধ্যায় ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা
বিবৃতিতে এনসিপি অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছে, অতীতে বহুবার দেখা গেছে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সভাপতির আসনে বসে দুর্নীতির ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যারা শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা রাখেন না, তারা শিক্ষকদের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। পুনরায় সেই অযোগ্যদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
এনসিপি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সভাপতির জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে একটি আশাব্যঞ্জক পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। এমতাবস্থায়, এনসিপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করা হোক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।