ইরান সংঘাত: ট্রাম্পের স্বল্পমেয়াদী দাবির বিপরীতে পেন্টাগনের দীর্ঘস্থায়ী প্রস্তুতির সংকেত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধকালীন পূর্বাভাসের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির আকাশ-পাতাল ফারাক দেখা যাচ্ছে। ইরান সংঘাত যে তাঁর দাবিকৃত চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে না, তা নিয়ে সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় বাড়ছে। ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই অভিযান প্রত্যাশার চেয়েও বহুগুণ দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে এই সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ হবে। তবে প্রশাসনের অভ্যন্তরেই সময়সীমা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি। ট্রাম্প চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের কথা বললেও তাঁর প্রতিরক্ষা সচিব ৮ সপ্তাহের সময়সীমা দিয়েছেন, আবার প্রেস সেক্রেটারি জানিয়েছেন ৬ সপ্তাহের কথা। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য যুদ্ধ পরিচালনার কৌশলগত অনিশ্চয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
পেন্টাগনের ‘১০০ দিনের’ গোপন আর্জি
সবচেয়ে বড় চমকটি দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি গোপন চাহিদা। জানা গেছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড পেন্টাগনের কাছে কমপক্ষে ১০০ দিনের জন্য অতিরিক্ত গোয়েন্দা সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে। এই আর্জি থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে হোয়াইট হাউস কার্যত দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা প্রেসিডেন্টের স্বল্পমেয়াদী ঘোষণার সম্পূর্ণ বিপরীত।
রণনীতি ও অর্থনৈতিক চাপ
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে খাটো করে দেখছে। কূটনৈতিক উদ্যোগের অনুপস্থিতিতে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে বিশ্বজুড়ে বিধ্বংসী প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করছেন। সাবেক মার্কিন কূটনীতিকরা এই পুরো অভিযানকে অগোছালো আখ্যা দিয়ে এর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বর্তমানে এই যুদ্ধে আমেরিকার প্রতিদিনের খরচ ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রায় ৮৯ কোটি ডলার। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ব্যয় মেটাতে মার্কিন অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌ-পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।