পুরস্কার যেন 'হাতে চাঁদ': প্রাপ্তি নিয়ে দ্বিধাহীন মোহন রায়হান
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫-এর জন্য মনোনীত খ্যাতিমান কবি মোহন রায়হান পুরস্কার পাওয়া বা না পাওয়া নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে একেবারেই বিচলিত নন। তাঁর মতে, তিনি তাঁর জীবনের প্রকৃত পুরস্কার ইতিপূর্বেই পাঠকদের কাছ থেকে পেয়ে গিয়েছেন। চলমান অমর একুশে বইমেলায় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন দৃঢ় মন্তব্য করেন।
পুরস্কার প্রাপ্তির নাটকীয় বিভ্রাট
কবি মোহন রায়হান জানান, প্রথা অনুযায়ী স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করে থাকেন। এ বছর মোট নয়জনকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল, যেখানে তালিকায় তাঁর নাম ছিল সবার প্রথমে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আটজনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁকে ডাকা হয়নি। এই অপমানের কারণে তিনি পুরস্কার গ্রহণ না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে এই বিভ্রাটের কারণ তাকে জানানো হলে তিনি লিখিত জবাব প্রদান করেন, যা সুধী মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
মোহন রায়হান বলেন, তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী নিজে পুরস্কার দেওয়ার কথা বলেছেন, তাই তাঁর দৃঢ় ধারণা, প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি সঠিকভাবে জানানো হয়নি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শক্রমে তিনি শেষ পর্যন্ত পুরস্কার গ্রহণের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেন। এর পরপরই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানায় যে, তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
পুরস্কার গ্রহণে তিন শর্ত
জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান এই পুরস্কার গ্রহণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তিনটি শর্ত আরোপ করেছেন। প্রথমত, তিনি চান প্রথা ও নিয়ম অনুযায়ী যেন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই তিনি পুরস্কারটি গ্রহণ করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, পুরস্কারের আর্থিক মূল্যমান তিনি নিজে গ্রহণ করতে নারাজ; বরং তিনি চান এই অর্থ যেন কোনো অসচ্ছল কবি, লেখক অথবা সংস্কৃতি কর্মীর সহায়তায় ব্যয় করা হয়।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বাংলা একাডেমি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, তাই এখানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। উল্লেখ্য, কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর পুরস্কারটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে ২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা নিশ্চিত করে।