সর্বশেষ
Loading breaking news...

রডের বাজারে অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নাকি সিন্ডিকেটের কারসাজি?

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

দেশের নির্মাণ শিল্পে ঘোর দুশ্চিন্তার ছায়া নেমে এসেছে। একদিনের ব্যবধানেই ইস্পাতের রডের দাম টনপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়ে যাওয়ায় আবাসন ও অবকাঠামো খাতে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণশিল্পের এই প্রধান কাঁচামালের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আবাসন স্বপ্নকে এক বিরাট সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

দোষারোপের বৃত্ত: সিন্ডিকেট বনাম বিশ্ববাজার

এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের অভিযোগের তীর অসাধু সিন্ডিকেটের দিকে। রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, “হঠাৎ করে রডের দাম বাড়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। মজুত থাকা পণ্যের ওপর যুদ্ধের প্রভাব এত দ্রুত পড়ার কথা নয়। এর পেছনে কোনো সিন্ডিকেটের কারসাজি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

অন্যদিকে, রি-রোলিং মিল মালিকরা আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাকেই এর মূল কারণ হিসেবে দাবি করেছেন। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে জাহাজ ভাড়া ১৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। এর সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বাড়তি দাম উৎপাদন খরচকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়ছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নজরে আসার পর শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, জনস্বার্থ রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি টন রড ৯০ থেকে ৯১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা কিছুদিন আগেও অনেক কম ছিল। এই পরিস্থিতিতে আবাসন খাত গভীর সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নজরদারির দাবি জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিশেষ ঋণের আবেদন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন