সর্বশেষ
Loading breaking news...

ইসফাহানের বিমানঘাঁটিতে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র: স্যাটেলাইট ছবিতে ১৩টি বিমানের ক্ষয়ক্ষতি প্রকাশ্যে

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র ইসফাহানের নিকটবর্তী একটি বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সম্প্রতি ধারণ করা অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, সেখানে অন্তত ১৩টি সামরিক বিমান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা ওই অঞ্চলের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এই বিমানঘাঁটিটি ইরানের বিমান বাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।

অগ্নিদগ্ধ অবকাঠামো ও ধ্বংসাবশেষের সন্ধান

আমেরিকান সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ভেঞ্চারের সংগৃহীত অষ্টম শিকারি বিমানঘাঁটির আকাশপথের ছবি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কিছু বিমান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং সেখানে কেবল পোড়া মাটির চিহ্ন অবশিষ্ট রয়েছে। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ এখনও রানওয়ের আশেপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এই দৃশ্য থেকে বোঝা যায় যে ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল যা নিমিষেই অনেক কিছু জ্বালিয়ে দিয়েছে।

যদিও এই স্যাটেলাইট চিত্র দেখে সুনির্দিষ্টভাবে কোন মডেলের বিমান (যেমন এফ-১৪ বা এফ-৭ ফাইটার জেট) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তবে ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ৯ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ের তুলনামূলক চিত্রে ওই স্থানে পূর্বে অবস্থান করা যুদ্ধবিমানগুলোর অনুপস্থিতি স্পষ্ট ধরা পড়েছে। এই বিশাল শূন্যতা সরাসরি ইরানের আকাশপথের প্রতিরক্ষায় বড় ঘাটতি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শুধু বিমানে নয়: হ্যাঙ্গারও লক্ষ্যবস্তু

ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কেবল যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইসফাহান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত এই ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ হ্যাঙ্গার এবং অন্যান্য স্থাপনাতেও দৃশ্যমান বড় ধরনের ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়েছে। বিবিসির ভেরিফাইড টিম এখন পর্যন্ত ইরানের চারটি ভিন্ন বিমানঘাঁটিতে বিধ্বস্ত বিমান এবং আরও ছয়টি ঘাঁটিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন শনাক্ত করেছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই অভিযানের প্রভাব একটি বৃহত্তর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল।

ইসফাহানের এই ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা সামরিক বিশ্লেষকদের বিশেষ নজরে এসেছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্রে উঠে আসা এই প্রমাণগুলো ঘটনার গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও নতুন মেরুকরণ ঘটাতে পারে।

আরও পড়ুন