শাহজালাল বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ সৌদিগামী যাত্রী আটক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হওয়ার মুহূর্তে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ সাইদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ডিএনসি নিশ্চিত করেছে যে, আটক ব্যক্তি একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের অত্যন্ত সক্রিয় সদস্য। এই চাঞ্চল্যকর আটকের ঘটনা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীক্ষ্ণতাকে প্রমাণ করে।
নিরাপত্তা তল্লাশিতে বেরিয়ে এল মাদকের প্যাকেট
গতকাল বিমানবন্দরে বোর্ডিং ব্রিজের ৫ নম্বর স্ক্যানিং মেশিন অতিক্রম করার সময় নিরাপত্তা তল্লাশির মুখে পড়েন সাইদুল ইসলাম। তল্লাশির এক পর্যায়ে তার কাঁধে থাকা ব্যাগের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। স্ক্যানারে ব্যাগের ভেতর সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি ধরা পড়লে নিরাপত্তা কর্মীরা তা খুলতে বাধ্য হন।
ব্যাগের ভেতর কার্বন ও স্কচটেপ দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মোড়ানো পলিথিন প্যাকেটের সন্ধান পাওয়া যায়। সেই প্যাকেটের ভেতর থেকে মোট ৪ হাজার ৩৬৪ পিস অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এক্স-রে মেশিনকে ফাঁকি দিতেই কার্বন পেপার ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে ইয়াবা বাণিজ্যের বিপজ্জনক নেটওয়ার্ক
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইদুল ইসলাম জানিয়েছে, সে এই বিপুল পরিমাণ মাদক সৌদি আরবে অবস্থানরত তার ভাই নুরুল আমীনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে উচ্চমাত্রার এই মাদক পাচার করে আসছিল।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই মাদক পাচার চক্রটি মূলত একটি দ্বিমুখী অবৈধ ব্যবসায় জড়িত ছিল। সাইদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা থেকে সৌদি আরবে ইয়াবা চালান করত এবং এর বিনিময়ে সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে স্বর্ণ চোরাচালান করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনত। এই ঘটনার পর গ্রেপ্তার সাইদুলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।