চট্টগ্রাম এনসিটি চুক্তি বৈধ ঘোষণা: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল খারিজ
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ব্যবস্থাপনার চুক্তি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে বিদেশি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালনার আইনি বাধা কেটে গেল। চুক্তির বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল খারিজ করার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি টানাপোড়েনের অবসান ঘটল।
আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যের ইতিহাস
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ জারি করেন। এর আগে হাইকোর্টের একটি দ্বিধাবিভক্ত রায়ের পর বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন। এনসিটি ব্যবস্থাপনায় পিপিপি আইনের লঙ্ঘন এবং দেশীয় অপারেটরদের বাদ দিয়ে বিদেশিদের সরাসরি সুযোগ দেওয়া নিয়ে রিটটি দায়ের করা হয়েছিল।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। আদালত পর্যালোচনায় দেখেছে যে, এনসিটি পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানির সাথে করা চুক্তিটি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নের পথ প্রশস্ত হলো।
চুক্তির প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
উল্লেখযোগ্য যে, এই চুক্তিটি মূলত দুবাই ভিত্তিক একটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে শুরু হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এই টার্মিনালটির ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিদেশি অংশীদারিত্বের ফলে বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা এবং কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আপিল বিভাগের এই আদেশের পর বন্দরে বিদেশি বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা পাওয়ার পথ এখন সুগম। দেশের অর্থনীতিতে গতি আনতে এবং আমদানিকারক-রপ্তানিকারকদের উন্নত সেবা দিতে এই টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার আশা করছে, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর আঞ্চলিক বাণিজ্যের একটি অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হবে।