ঈদের আগে রাজধানীতে ছিনতাইয়ের হিড়িক: শিকার দুদক মহাপরিচালক ও পুলিশ সদস্য
আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতে পথচারী ছিনতাইয়ের ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এখন দুর্বৃত্তদের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন মহাপরিচালক এবং একজন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য এই ভয়ানক অপরাধের শিকার হওয়ায় জনমনে গভীর উদ্বেগ ও ভীতি সৃষ্টি হয়েছে।
পরিসংখ্যানে ছিনতাইয়ের ভয়াবহ চিত্র
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ছিনতাইয়ের ৩০৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস মিলিয়ে সারা দেশে কয়েকশ ছিনতাই ও দস্যুতার মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের ধারণা, ভুক্তভোগীদের মামলা না করার প্রবণতার কারণে প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৬৫ শতাংশ ছিনতাই দ্রুতগামী মোটরসাইকেল ব্যবহার করে সংঘটিত হচ্ছে। ছিনতাইকারীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার জন্য এই মাধ্যমটিকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। এছাড়া ২০ শতাংশ ঘটনা সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এবং বাকি ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ছদ্মবেশে সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। এই ক্রমবর্ধমান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ ও ঝুঁকি
আইজিপি আলী হোসেন ফকির ছিনতাই-ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশের পুলিশ বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, শুধুমাত্র ঢাকাতেই ৪৩২টি স্থানকে ছিনতাইপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৯৭৯ জন ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মহাসড়ক ও নৌপথে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গত শনিবার মোহাম্মদপুরে তারাবিহ নামাজ শেষে ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন দুদক মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন। দুর্বৃত্তরা তাঁর আইফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তাঁকে মারধরও করে। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জে কর্তব্যরত অবস্থায় একজন এএসআই-এর সরকারি পিস্তল ছিনিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা। এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলার বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন।