ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানোয় সুসান সারানডন কি হলিউড থেকে নির্বাসিত?
অস্কারজয়ী কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুসান সারানডন বর্তমানে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের রূপালি জগত থেকে প্রায় অদৃশ্য। দীর্ঘদিনের সফল ক্যারিয়ারে এমন স্থবিরতা আগে কখনো দেখা যায়নি। সম্প্রতি বার্সেলোনায় স্প্যানিশ ফিল্ম একাডেমির সম্মাননা নিতে এসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার এই রহস্যময় অন্তর্ধানের পেছনের চাঞ্চল্যকর কারণগুলো অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
হলিউডের রুদ্ধদ্বার নীতি ও এক প্রতিবাদী কণ্ঠের নির্বাসন
৭৯ বছর বয়সি এই অভিনেত্রী অকপটে স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিতে সরব হওয়ার কারণে তাকে তার দীর্ঘদিনের ট্যালেন্ট এজেন্সি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০২৩ সালে ফিলিস্তিনের সমর্থনে আয়োজিত একটি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই হলিউডের বড় বড় প্রযোজনা সংস্থা ও টেলিভিশন প্রজেক্টগুলোর দরজা তার জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সুসান জানান, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাকে একঘরে করার এই প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
ইউরোপের হাত ধরে নতুন দিগন্ত ও সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে লড়াই
হলিউডে ব্রাত্য হলেও সুসান দমে যাননি। তিনি বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোতে, বিশেষ করে ইংল্যান্ড ও ইতালিতে নতুন এজেন্টের সহায়তায় কাজের সুযোগ খুঁজে নিয়েছেন। ইতালিতে একটি সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় মঞ্চ নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি। সারানডন আরও জানান, কিছু প্রভাবশালী মহল আন্তর্জাতিক পরিচালকদের তাকে কাস্ট না করার জন্য সরাসরি চাপ দিলেও, অনেক সাহসী পরিচালক সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাকে তাদের স্বাধীন চলচ্চিত্র ও ছোট প্রজেক্টে যুক্ত করেছেন।
স্পেনের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেখানে অনেক দেশে সেন্সরশিপের খড়গ চলছে, সেখানে স্পেনের প্রেসিডেন্ট এবং হাভিয়ের বারদেমের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা গাজার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছেন—যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। সুসানের মতে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে একজন শিল্পীকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া শিল্পের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার পথে এক বিরাট অন্তরায়। তবে আন্তর্জাতিক এই বিশাল প্ল্যাটফর্ম তাকে নতুনভাবে কাজের অনুপ্রেরণা ও সম্ভাবনা জুগিয়েছে।