সর্বশেষ
Loading breaking news...

আতঙ্কের নগরী সিলেট: সিসিটিভিতে ধরা পড়লেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিনতাইকারীরা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে হঠাৎ করেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্র। বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে দিনদুপুরে একের পর এক দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি বড় ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশের ব্যর্থতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। নগরবাসী এখন রাস্তায় বের হতেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অস্ত্রের মুখে নারী: সিসিটিভি ফুটেজে রোমহর্ষক মুহূর্ত

গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরের সাগরদিঘিরপার এলাকায় এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক নারী জনশূন্য রাস্তায় একা হেঁটে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করে। নির্জনতার সুযোগ নিয়ে তারা ওই নারীর ব্যাগ ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। সাহসী ওই নারী ব্যাগ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে ছিনতাইকারীরা লম্বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাতের হুমকি দেয়। তবে পথচারীদের আনাগোনা টের পেয়ে শেষ পর্যন্ত তারা ব্যাগ ও মোবাইল ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

এই ঘটনার ঠিক ৯ দিন আগে হাউজিং এস্টেট এলাকায় ঘটে আরও একটি চাঞ্চল্যকর ছিনতাই। সেখানে এক নারী কর কর্মকর্তার অটোরিকশা থামিয়ে প্রকাশ্যে তার সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়। তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল দুষ্কৃতকারী অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে এই অপারেশন চালায়। ভিডিওতে দেখা যায়, অপরাধীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে ঘিরে ধরে ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে নির্বিঘ্নে চম্পট দেয়। দিনে-দুপুরে এমন সংঘবদ্ধ অপরাধ নগরবাসীকে স্তম্ভিত করেছে।

রদবদল হয়েছে কর্মকর্তা, কিন্তু ফেরেনি স্বস্তি

একের পর এক এমন দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ তুলেছেন নাগরিকরা। হাউজিং এস্টেটের ঘটনার পর বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোবাশ্বিরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে অপরাধীদের দমনে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ নিয়ে আইনজীবী রনেন সরকার রণি আক্ষেপ করে বলেন, দিনের আলোতে এমন অপরাধ জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সিসিটিভি ফুটেজ থাকার পরও পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতারে ব্যর্থ হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি মনে করেন, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এই অস্থিরতা নিয়ে কথা বলতে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন