সর্বশেষ
Loading breaking news...

তেল-সম্পদ দখলে নিতে ইরানকে ভাঙার গভীর ষড়যন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্র: তেহরান

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইরানের তেল-সম্পদ কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে দেশটি বিভক্ত করার এক সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত চালাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তেহরান। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এক উচ্চ পর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেন। এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

রহস্যময় পরিকল্পনার স্পষ্ট উদ্দেশ্য ফাঁস

বাগাই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আমেরিকার উদ্দেশ্য অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং স্বার্থান্বেষী। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা দিবালোকের মতোই স্পষ্ট; তারা ইরানকে খণ্ড-বিখণ্ড করে আমাদের জাতীয় সম্পদ, বিশেষত তেলভাণ্ডার অবৈধভাবে হস্তগত করতে চায়।” মুখপাত্রের মতে, এই উচ্চাভিলাষী উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই ওয়াশিংটন কূটনৈতিক আলোচনাকে বারবার ব্যর্থ করেছে এবং অঞ্চলে যুদ্ধ সৃষ্টি করেছে।

কূটনীতি ভেস্তে দেওয়ার অভিযোগ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন

তেহরানের মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন যে, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা শুরু করার ঠিক পূর্বে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে আমেরিকা। বাগাইয়ের মতে, যখন ইরান পূর্ণাঙ্গভাবে শান্তিপূর্ণ সমাধানে মনোনিবেশ করেছিল, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেয়। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠিত প্রথাগুলোর চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাগাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে ইরানের ভবিষ্যৎ দেশটির জনগণের নিজস্ব ইচ্ছার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে, কোনো বিদেশি শক্তির চাপে নয়। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, ইরানি জাতি তাদের জন্মভূমি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত রয়েছে।

মুখপাত্র যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আসল লক্ষ্য কেবল শাসন পরিবর্তন নয়, বরং ইরানের সার্বভৌমত্ব বিলীন করা এবং জনগণের মনোবল ভেঙে দেওয়া। তবে তাদের এই অশুভ প্রচেষ্টা সফল হবে না বলে তিনি দাবি করেন। তেহরান এখন তার মাতৃভূমি রক্ষার জন্য জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন