সর্বশেষ
Loading breaking news...

লালমনিরহাটে বিরল তক্ষক উদ্ধার: কোটি টাকার হাতছানি নাকি কুসংস্কারের জাল?

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

লালমনিরহাটে বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে এক সফল অভিযানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তিনটি বিলুপ্তপ্রায় তক্ষক উদ্ধার করেছে। সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চিনিপাড়া গ্রামের মুকুল আলী নামের এক ব্যক্তির বসতবাড়ি থেকে এই বিরল প্রাণীগুলোকে বন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সফল অভিযান

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চিনিপাড়া এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সন্দেহভাজন মুকুল আলীর বসতবাড়িতে আকস্মিক তল্লাশি চালিয়ে তার শয়নকক্ষ থেকে জালের খাঁচায় বন্দি অবস্থায় তক্ষক তিনটি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলোর বিবরণ দিতে গিয়ে পুলিশ জানায়, প্রতিটি তক্ষকের দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১৩ ইঞ্চি এবং এদের শরীরে স্পষ্ট সাদা ডোরাকাটা দাগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, অতি মুনাফার আশায় পাচারের উদ্দেশ্যেই প্রাণীগুলোকে এভাবে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছিল।

তক্ষকের বাজারমূল্য: শুধুই কি গুজব?

উদ্ধারকৃত তক্ষকগুলোর বাজারমূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তুমুল গুঞ্জন শোনা গেলেও, বনবিভাগ বলছে এর বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। মূলত প্রচলিত কুসংস্কার ও রাতারাতি বড়লোক হওয়ার অতি লোভে পড়ে কিছু অসাধু মানুষ এই নিরীহ ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী নিধন এবং পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদ আহমেদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যেহেতু তক্ষকগুলো সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী, তাই এগুলোকে নিরাপদে অবমুক্ত করার জন্য লালমনিরহাট জেলা বনবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন