সর্বশেষ
Loading breaking news...

'অনন্তকাল' যুদ্ধ চালানোর মতো অস্ত্র আমেরিকার আছে: ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর দাবি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুত রয়েছে, তা দিয়ে কার্যত 'অনন্তকাল' ধরে লড়াই চালানো সম্ভব—সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ প্রকাশিত তাঁর এই দাবি তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্বজুড়ে একাধিক যুদ্ধক্ষেত্র নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে।

অস্ত্রভান্ডারের গোপন ক্ষমতার ঘোষণা

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, আমেরিকার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও অস্ত্রের জোগান প্রায় সীমাহীন। তিনি লেখেন, “আমাদের কাছে এই ধরনের অস্ত্রের সরবরাহ কার্যত অসীম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিপুল মজুত নিয়ে প্রস্তুত এবং নিশ্চিতভাবেই বড় জয় ছিনিয়ে আনার জন্য বদ্ধপরিকর!!!” তাঁর এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির আস্ফালন এবং অভ্যন্তরীণ জনমতকে প্রভাবিত করার একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে যখন নির্বাচনের হাওয়া বইছে।

একই পোস্টে ট্রাম্প বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পররাষ্ট্র ও সমরনীতির বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগেছেন। তাঁর অভিযোগ, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে 'অনেক উচ্চমানের' মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ করে ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষত, বাইডেনের মেয়াদের শেষ লগ্নে ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি ট্রাম্পের সমালোচনার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ১৯০ মাইল বা ৩০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।

ট্রাম্পের মতে, ইউক্রেনকে এত উন্নত অস্ত্র দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং এটি সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ক্ষমতায় থাকলে তিনি ভিন্নভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতেন। তাঁর এই বক্তব্য রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে সাড়া ফেললেও ডেমোক্র্যাট এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমেরিকার অস্ত্র সঞ্চয় এবং তা ব্যবহারের নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেমন তিনি নিজের দেশের অদম্য সামরিক সক্ষমতার বার্তা দিয়ে প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে সতর্ক করলেন, তেমনই অন্যদিকে ইউক্রেন সহায়তা নিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিভাজনকেও উসকে দিলেন।

আরও পড়ুন