ইরান ইস্যুতে ব্রিটেনের সাহায্যের 'প্রয়োজন নেই': স্টারমারকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধে ওয়াশিংটনের জয়ের জন্য ব্রিটেনের সামরিক সহায়তার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, লন্ডন যদি দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর বিষয়ে 'গুরুত্ব দিয়ে চিন্তাভাবনা' করে থাকে, তবে সেই প্রস্তাব এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। ট্রাম্পের এই মন্তব্য পশ্চিমা সামরিক মিত্রদের মধ্যে চলমান সাম্প্রতিক টানাপোড়েনকে আরও একবার সামনে এনেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য পশ্চিমা দুই শক্তিশালী মিত্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক শীতল সম্পর্কের দিকেই ইঙ্গিত করছে। বিশেষত, ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে না দেওয়ায় ট্রাম্প প্রকাশ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং তাঁর সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, স্টারমার দুই দেশের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে 'ধ্বংস' করছেন।
ট্রাম্পের ক্ষোভ ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি উল্লেখ করেন যে, ইরানের সঙ্গে কোনো সংঘাতে ব্রিটিশ সমর্থনের অভাব তিনি ভবিষ্যতে 'মনে রাখবেন'। তিনি লেখেন, “আমাদের এক সময়ের মহান মিত্র যুক্তরাজ্য... অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে বলে জানিয়েছে। ঠিক আছে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, এগুলোর আমাদের আর প্রয়োজন নেই—কিন্তু আমরা মনে রাখবো।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা ইতোমধ্যে জয়ী হয়ে যাওয়ার পর যেসব লোকজন যুদ্ধে যোগ দেয়, তাদের প্রয়োজন নেই আমাদের।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য স্পষ্ট করে তুলছে যে, ব্রিটিশদের প্রাথমিক সামরিক সহযোগিতা না পাওয়ার ক্ষোভ তিনি এখনও পুষে রেখেছেন।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে দুই ঐতিহ্যবাহী মিত্রের সম্পর্কের এই অবনতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এই সরাসরি প্রত্যাখ্যান ও হুঁশিয়ারি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়।