হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের রণডঙ্কা: ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, ১৬টি জাহাজ ধ্বংস করল আমেরিকা
হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন নিয়ে ইরানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে যদি ইরান সত্যিই কোনো মাইন বসিয়ে থাকে, তবে তা অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি মাইন বসানোর পর তা সরিয়ে নেওয়া না হয়, তবে ইরানকে এক ‘নজিরবিহীন’ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
অ্যাকশনে আমেরিকা: ধ্বংস ১৬টি ইরানি নৌযান
ট্রাম্পের এই কড়া বার্তার পরপরই অভিযানে নামে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশনায় সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে থাকা ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজগুলোকে ধ্বংস করতে শুরু করেছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজসহ ইরানের বেশ কয়েকটি নৌযান সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনীতে হুমকি
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক ও জ্বালানি সরবরাহ পথ। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পারাপার হয়। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান সম্প্রতি এই প্রণালিতে মাইন বসানোর কাজ শুরু করেছে। যদিও এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে ইরানের সক্ষমতা অনুযায়ী যেকোনো মুহূর্তে পুরো জলপথ মাইন দিয়ে রুদ্ধ করে দেওয়া সম্ভব।
রুদ্ধ জলপথ ও ‘মৃত্যু উপত্যকা’ আতঙ্ক
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকেই এই জলপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। চলাচলের ক্ষেত্রে চরম ঝুঁকির কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে একটি ‘ডেথ ভ্যালি’ বা মৃত্যু উপত্যকা হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে, নিরাপত্তার অভাবে বর্তমানে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে পাহারায় পার করে দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।
ট্রাম্পের আশ্বস্তকরণ ও মার্কিন সামরিক শক্তি
তবে এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ থাকবে। সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে এবং মাইন শনাক্ত করার জন্য বিশ্বের সর্বাধুনিক সরঞ্জাম আমেরিকার হাতেই রয়েছে বলে তিনি জোর দিয়ে জানান। বর্তমানে আইআরজিসি-র সামুদ্রিক সক্ষমতা মোকাবিলার জন্য পেন্টাগন থেকে বাড়তি যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।