ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় আঙ্কারায় নিযুক্ত তেহরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে তুরস্ক এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুপ্রবেশের ব্যাখ্যা দাবি করেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত
ঘটনাটির শুরু হয় যখন ইরান থেকে উৎক্ষিপ্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের সীমান্তের ভেতরে প্রবেশ করে। উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর (NATO) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ভূপাতিত করে। ধ্বংসাবশেষগুলো তুরস্কের গাজিয়ান্তেপ শহরের একটি খালি মাঠে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
দ্বিতীয়বার আকাশসীমা লঙ্ঘন
আঙ্কারা জানিয়েছে, গত কয়েকদিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা। এর আগেও ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশপথ লক্ষ্য করে ধাবিত হয়েছিল, যা তুর্কি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করে। পরপর দুটি নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় তুরস্কের সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হাসান হাবিবোল্লাহজাদকে ডেকে পাঠিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা স্পষ্ট করেছে যে, সার্বভৌমত্বের ওপর এমন আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আঙ্কারা এই অনুপ্রবেশের পেছনে ইরানের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা বিস্তারিতভাবে জানতে চেয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ন্যাটোর সদস্য দেশ হিসেবে তুরস্কের আকাশসীমা রক্ষায় জোটের অন্যান্য সদস্য দেশগুলোও সজাগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে।