বগুড়ায় জমি নিয়ে বিরোধে জামায়াত নেতা খুন: মূল ঘাতকসহ র্যাবের জালে ২
বগুড়া শহরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জামায়াত নেতা হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১২)। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পৃথক অভিযানে এই দুই সন্দেহভাজনকে আইনের আওতায় আনা হয়। এর আগে শহরের মাহবুবনগর এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত সাইফুল ইসলাম বগুড়া শহরের খান্দার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া শহর শাখার ওলামা বিভাগের রুকন ও দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নেপথ্যের ঘটনা ও র্যাবের তৎপরতা
র্যাব ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম তার ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষ ইয়ার মোহাম্মদ ও তার সহযোগীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে কাজে বাধা দেয়। এই বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। এক পর্যায়ে ইয়ার মোহাম্মদ ধারালো চাকু দিয়ে সাইফুলের তলপেটে সজোরে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফুলকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও ঢাকায় স্থানান্তরের পথে তিনি মারা যান।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের দুলাভাই বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে র্যাব-১২। র্যাব জানায়, বগুড়ার ধুনট উপজেলার মোহনপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে বিক্রমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়।
একই দিনে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের অপর সহযোগী মোছা. বেবী খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, গ্রেপ্তারকৃত দুই অভিযুক্তকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাবের দ্রুত পদক্ষেপে মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।