সর্বশেষ
Loading breaking news...

সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা: নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাজ্য

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট চরম উত্তেজনা এবং ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির মুখে নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাজ্য। এই অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় তিন লক্ষ ব্রিটিশ নাগরিককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সহায়তার জন্য বিশেষ দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে লন্ডন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার স্কাই নিউজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা অঞ্চলটির নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পক্ষ থেকে ড্রোন হামলা চালানোয় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। সাইপ্রাসর প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডোলিডেস শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এই হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। যদিও প্রাথমিক রিপোর্টে সামান্য বস্তুগত ক্ষতির কথা বলা হয়েছে, তবে এই হামলা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন এক বিপজ্জনক মাত্রা যোগ করেছে। প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টোডোলিডেস অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে, সাইপ্রাস কোনো অবস্থাতেই কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত নয়।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎসমুখেই ধ্বংসের বার্তা

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এক ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের অংশীদারদের পক্ষ থেকে সহায়তার অনুরোধ এসেছে। স্টারমার উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান সফলভাবে ইরানের হামলা প্রতিহত করলেও এই হুমকি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো ক্ষেপণাস্ত্র উৎসমুখেই সেগুলোকে ধ্বংস করা।

এই সামগ্রিক পরিস্থিতি উদ্ভূত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা আক্রমণের প্রেক্ষাপটে। ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থকে নিশানা করছে। বিশেষত ইসরায়েল ছাড়াও কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ইরানি বাহিনী হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার এই জরুরি পদক্ষেপ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাজ্য বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। সাইপ্রাসের ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে সংঘাতের পরিধি ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে এবং ব্রিটিশ স্বার্থ সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে।

আরও পড়ুন