সর্বশেষ
Loading breaking news...

ভিসার অপব্যবহার রোধে ৪ দেশের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ব্যবহার করে আশ্রয় প্রার্থনার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্যামেরুন, মিয়ানমার, সুদান এবং আফগানিস্তানের শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা প্রদান বন্ধ রাখা হবে। মূলত দেশের ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করাই এই সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য। এই চার দেশের শিক্ষার্থীরা এখন থেকে আর সাধারণ শিক্ষা ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষা অঙ্গনে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পর্দার আড়ালে চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান

হোম অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে উল্লিখিত চারটি দেশের নাগরিকদের মধ্যে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর আশ্রয় চাওয়ার প্রবণতা ৪৭০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিসংখ্যানই মূলত সরকারকে এমন কঠোর অবস্থান গ্রহণে বাধ্য করেছে। শিক্ষা ভিসাকে ব্যবহার করে স্থায়ীভাবে বসবাসের এই প্রবণতা যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া আফগান নাগরিকদের জন্য কর্মভিসা বা ওয়ার্ক ভিসাও স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশটির অভিবাসন নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আফগানিস্তানের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেখান থেকে আসা নাগরিকদের মধ্যে আশ্রয় চাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। তবে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোরতা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, শিক্ষা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

অপব্যবহার রোধে কড়া বার্তা

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধ এবং নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের ব্রিটেন সবসময় আশ্রয় দেবে, কিন্তু আমাদের ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।” মন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখলেও, সিস্টেমের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি আর বরদাশত করবে না।

এই বার্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকার নতুন নিয়ম প্রস্তাব করেছে, যার অধীনে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের শরণার্থী মর্যাদা প্রতি ৩০ মাস অন্তর পর্যালোচনা করা হবে। সরকারের বিশ্বাস, এই পদক্ষেপের ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের কাছে যুক্তরাজ্য কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। নতুন এই নীতি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য যুক্তরাজ্যে আসা বিদেশি নাগরিকদের ওপর নজরদারি আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন