কৃষ্ণসাগরের বুকে ফের ইউক্রেনীয় ছোবল, তীব্র হামলায় বিপর্যস্ত রাশিয়ার জোড়া যুদ্ধজাহাজ!
ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি নোভোরোসিস্কে চালানো এক হামলায় দুটি রুশ যুদ্ধজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলাকে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার আধিপত্যের ওপর আরও একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা রাশিয়ার নৌ-নিরাপত্তার দুর্বলতা নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
গভীর রাতে নৌঘাঁটিতে হানা, কী ঘটেছিল সেদিন?
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফের বিবৃতি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২ মার্চ রাশিয়ার ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলে অবস্থিত নোভোরোসিস্ক নৌঘাঁটিতে। হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে সম্প্রতি দুটি ফ্রিগেট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জাহাজ দুটি হলো— ‘অ্যাডমিরাল এসেন’ এবং ‘অ্যাডমিরাল মাকারভ’। এই দুটি জাহাজই রুশ নৌবহরের অন্যতম শক্তিশালী ও আধুনিক যুদ্ধজাহাজ হিসেবে পরিচিত।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এই হামলায় আরও কোনও রুশ নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা জানতেও বিশদ বিশ্লেষণ চলছে। এর আগে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার একটি সূত্র জানিয়েছিল, একই হামলায় মাইনসুইপার ‘ভালেন্তিন পিকুল’ এবং সাবমেরিন-বিরোধী জাহাজ ‘ইয়েসিক’ ও ‘কাসিমভ’ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু নৌবহর নয়, নিশানায় ছিল রাশিয়ার অর্থনীতির ধমনীও!
ক্রিমিয়ায় ধারাবাহিক হামলার মুখে নোভোরোসিস্ক রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। তবে ইউক্রেনের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল কেবল নৌঘাঁটি নয়, বরং রাশিয়ার একটি প্রধান তেল রফতানি টার্মিনালও। এই টার্মিনালটি বিশ্বের বৃহত্তম তেল পাইপলাইন অপারেটর, রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘ট্রান্সনেফট’-এর পাইপলাইনের শেষ প্রান্ত হিসেবে কাজ করে।
ইউক্রেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত শত্রুপক্ষের সামরিক ও শিল্প অবকাঠামোর ওপর এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে। এই হামলার ফলে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে।