সর্বশেষ
Loading breaking news...

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ব্যয় বাড়ল: গ্রিনকার্ড ও কর্মভিসার ফি বৃদ্ধির খড়গ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও কাজের স্বপ্ন এখন আরও ব্যয়বহুল হলো। মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে এবং আবেদনের বিশাল জট কমাতে গ্রিনকার্ড ও বিভিন্ন কর্মভিত্তিক ভিসার ‘প্রিমিয়াম প্রসেসিং’ ফি বাড়িয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (ইউএসসিআইএস)। গত ১ মার্চ থেকে এই নতুন ফি কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে বর্ধিত ফি দিয়ে আবেদন না করলে তা সরাসরি ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে, যা প্রবাস প্রত্যাশীদের জন্য একটি বড় আর্থিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কোন ভিসায় কত বাড়ল?

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এইচ-১বি, এল-১ এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিনকার্ডের (আই-১৪০) মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিসাগুলোর ফি ২,৮০৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২,৯৬৫ ডলার করা হয়েছে। ধর্মীয় কর্মী (আর-১) এবং মৌসুমি কৃষি কর্মীদের (এইচ-২বি) জন্য ফি ১,৬৮৫ ডলার থেকে বেড়ে ১,৭৮০ ডলার হয়েছে। এছাড়া ও-১, পি, কিউ, ই এবং টিএন (আই-১২৯) ওয়ার্ক ভিসার ফি-ও বাড়িয়ে ২,৯৬৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, পারিবারিক কোটায় গ্রিনকার্ড আবেদনের ফি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য স্ট্যাটাস পরিবর্তনের ফি বাড়িয়ে ২,০৭৫ ডলার করা হলেও ওয়ার্ক পারমিট (ওপিটি ও স্টেম ওপিটি) অনুমোদনের প্রিমিয়াম ফি আগের মতোই ১,৭৮০ ডলার রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই অংশটুকু অপরিবর্তিত রাখা কিছুটা হলেও আশার আলো জাগিয়েছে।

কর্তৃপক্ষের কড়া হুঁশিয়ারি

ইউএসসিআইএস তাদের ওয়েবসাইটে একটি কঠোর সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ১ মার্চ বা তার পরে পাঠানো কোনো আবেদনে পুরোনো ফি জমা দেওয়া হলে, সেই আবেদন গ্রহণ না করে সরাসরি ফেরত পাঠানো হবে। এর ফলে আবেদনকারীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হতে পারে এবং যারা দ্রুত কাজ শুরু করার অপেক্ষায় আছেন, তাদের স্বপ্নপূরণে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব ঘটবে। কর্তৃপক্ষ মনে করিয়ে দিয়েছে, বর্ধিত ফি আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য, তবে এটি অনুমোদনের কোনো নিশ্চয়তা দেয় না।

আইন অনুযায়ী, প্রতি দুই বছর পর পর এই ফি পর্যালোচনা করার নিয়ম রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এই খরচ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিউইয়র্কের অভিবাসন অ্যাটর্নি অশোক কর্মকার মনে করেন, এই বাড়তি ফি চাকরিদাতা এবং অভিবাসী কর্মী উভয়ের জন্যই একটি নতুন চাপ তৈরি করবে। তবে তিনি এও বলেন, যদি কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আবেদনের জট কমাতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি আবেদনকারীদের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

আরও পড়ুন