ইরান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ব্যয় প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার
ইরানের বিরুদ্ধে সদ্য শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের এক বিশাল খতিয়ান সামনে এসেছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের প্রথম দিনেই মার্কিন বাহিনীর খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা অকল্পনীয়। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ২০২৬ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ০.১ শতাংশের সমান, যা যুদ্ধের তীব্রতা ও ব্যাপকতার ইঙ্গিত দেয়।
ব্যয়বহুল স্টিলথ প্রযুক্তির ব্যবহার
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় মিসৌরি থেকে উড়ে আসা চারটি বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোম্বার অংশ নেয়। রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম এই বিমানগুলোর উড্ডয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং এতে ব্যবহৃত ২০০০ পাউন্ডের জেডিএএম (JDAM) বোমার খরচ মিলিয়ে কেবল এই খাতেই ব্যয় হয়েছে ৩০.২ মিলিয়ন ডলার। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নিখুঁত হামলার জন্য এই ব্যয়বহুল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের খরচ
আকাশপথে আধিপত্য বিস্তারে এফ-২২ র্যাপ্টর, এফ-৩৫ লাইটনিং-২ এবং এফ-১৬ ফ্যালকনের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েক দফা হামলায় এসব বিমানের উড্ডয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ খরচ হয়েছে ২৭১.৩৪ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া নজরদারি ও হামলার জন্য এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং ইএ-১৮জি গ্রাউলারের মতো বিশেষায়িত বিমান ব্যবহার করায় খরচের পাল্লা আরও ভারী হয়েছে।
সমুদ্র ও স্থল পথের সমরব্যয়
স্থলভাগে হাইমার্স মিসাইল সিস্টেম এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমানের ব্যবহারে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪২৩.৫৭ মিলিয়ন ডলার। এর বাইরে সমুদ্রে মোতায়েন করা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড—এই দুটি বিশাল বিমানবাহী রণতরীর একদিনের পরিচালন ব্যয়ই প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার। এই রণতরীগুলো হামলার জন্য কৌশলগত অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
টমাহক মিসাইলের আঘাত
ফুটেজ ও সামরিক সূত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অভিযানের প্রথম দিনে মার্কিন নৌবাহিনী প্রায় ২০০টি টমাহক ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। প্রতিটি মিসাইলের উচ্চমূল্য বিবেচনায় কেবল এই মিসাইলগুলোর পেছনেই খরচ হয়েছে ৩৪০.৪ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে যুদ্ধের প্রথম দিনেই প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের এই খরচ সামরিক বিশ্লেষকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।