গাইবান্ধায় নারী দিবসে অধিকারের সুর: বৈষম্যের শিকল ভাঙার শপথ
‘বৈষম্য রুখব, প্রথা ও সংস্কার ভাঙব, সমতার পৃথিবী গড়ব’—এই দৃঢ় অঙ্গীকারকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের গাইবান্ধা জেলা শাখা একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে, যেখানে নারীর অধিকার ও বঞ্চনার চিত্রগুলো তুলে ধরা হয়।
নারী মুক্তির পথে কাঁটা
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় বক্তারা বলেন, নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা এবং শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন এখনো এ দেশে নারী মুক্তির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের নারী আন্দোলনের ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও তাদের প্রতি সহিংসতার মাত্রা এখনো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
সমাজে ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা যেমন অহরহ ঘটছে, তেমনি অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকারও হচ্ছেন নারীরা। বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় শ্রমজীবী নারীরা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও এখনো চরম মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, যা নারী অধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
বাল্যবিবাহ: অভিশাপের অন্য নাম
সভায় বক্তারা সমাজ ব্যবস্থার আরেকটি অন্ধকার দিক তুলে ধরে উল্লেখ করেন, বখাটে ও সন্ত্রাসীদের ভয়ে অনেক অসহায় অভিভাবক তাদের মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে নারীদের স্বাভাবিক ও সুস্থ বিকাশ এবং সমাজে তাদের ভবিষ্যৎ সক্রিয় অংশগ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সমাজের একটি বৃহৎ অংশ মানসম্মত শিক্ষা থেকে পিছিয়ে থাকায় পরোক্ষভাবে বাল্যবিবাহ উৎসাহিত হচ্ছে।
এর পাশাপাশি ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার এবং জরাজীর্ণ পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বক্তাদের মতে, নারীর পূর্ণ বিকাশ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এগুলোই এখন প্রধান বাধা। এই ভয়াল প্রতিকূল অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সমাজে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ এবং জোরালো রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই।